// পশুবলি, পশু-জবাই মামলার সওয়াল //

(High court এর পশু হত্যার মতো ভুল রায়কে challenge জানিয়ে supreme court এ সওয়াল)

সুশীল: পশুবলি, পশুজাবাই এর মত রক্তাক্ত খেলা বন্ধ করা উচিত।

মোল্লা: একদমই না। এটা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটা নিয়ম।

সুশীল: সতীদাহ প্রথাও দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়ম। তাহলে বলুন ওটাও চালু করা উচিত।

মোল্লা: ওটা মানুষ আর এটা জন্তু।

সুশীল: জন্তুরও প্রাণ আছে। তাদেরও ব্যাথা লাগে। 

মোল্লা: আপনি মনে হয় পাগল হয়ে গেছেন। আপনি রোজ ভাত এর সাথে mutton খান। সে বেলায়?

সুশীল: সেটা বেঁচে থাকার জন্য খাই। এটা বাস্তুতন্ত্র।
কিন্তু পশুদের বলি না দিলে মানুষ মরে যাবেনা।
এই নোংরা মৃত্যু খেলা অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।

মোল্লা: সরকার কোনোভাবেই মানুষের ধর্ম, বিশ্বাসে আঘাত করতে পারেনা।

সুশীল: যে ধর্ম জীবের প্রাণ নিয়ে নেয় আমি তাকে ধর্ম বলে মনে করিনা। এটা নৃশংসতা। এই জীবন কেরে নেওয়া হত্যাকারী ধর্ম থাকার চেয়ে না থাকা ভালো।
বেঁচে থাকার জন্য খাওয়া আলাদা ব্যাপার। কিন্তু কুসংস্কারের জন্য কারোর প্রাণ নিয়ে নেওয়া অপরাধ।

মোল্লা: এতে মানুষের বিশ্বাস জড়িয়ে আছে।

সুশীল: কারোর বিশ্বাস জড়িয়ে আছে বলে কারোর জীবন নেওয়া যায়না।
আর বিশ্বাসের কথা বলছেন?
বিজ্ঞান তো এসব ভগবান, আল্লাহ প্রমাণই করতে পারেনি। তাহলে এই কুসংস্কারের ভিত্তিতে কারোর জীবন নেওয়ার কি মানে?

মোল্লা: কিন্তু মানুষের বিশ্বাসে আঘাত করার অধিকার কারোর নেই।

সুশীল: কারোর ভালোর জন্য কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাস বদলাতেই হবে।
জীবন সবার চেয়ে দামী। জীবনের চেয়ে দামী বিশ্বে কিচ্ছু নেই।
জীবনের চেয়ে বিশ্বাস, রীতি কখনও বড় হতে পারেনা। তারজন্য যদি এই ভ্রান্ত বিশ্বাস যদি ত্যাগ করতে হয় তো হবে। 

মোল্লা: এটা কখনোই সম্ভব না। এতে মানুষের বহু বছরের বিশ্বাস, আবেগ সব জড়িয়ে আছে।

সুশীল: ভুল বিশ্বাস সবসময় বর্জন করতে হয়।
আর এতে কোনো মহান কার্য সাধন হচ্ছে না যে এই মৃত্যু খেলা চালিয়ে যেতে হবে।

মোল্লা: এটাই মন্দিরের চিরাচরিত নিয়ম।

সুশীল: নরবলিও চিরাচরিত নিয়ম ছিল। বহু বছর ধরে সেই নরবলি চলে এসেছে। তাহলে এই চিরাচরিত নিয়ম কেনো তোলা হলো? এতে ধর্মে আঘাত লাগেনি?

মোল্লা: এটা পশু আর ওটা ছিল মানুষ।

সুশীল: ও ওটা পশু। আর বাঘ, হরিণ পশু না? ওদেরকে শিকার কেনো বন্ধ করা হলো? পশু শিকার যদি বন্ধ করা যায়; পশু বলি, পশু জবাই কেনো নয়??

(সমস্ত আদালত নিস্তব্ধ)

মোল্লা: ওটা ছিল শিকারের পশু, আর এটা আহতির পশু। 

সুশীল: পশুরও আবার ভেদাভেদ? এতো ঘোর কুসংস্কার। আইন কুসংস্কার মানে না।

মোল্লা: এটাই নিয়ম। এটাই বিশ্বাস। 

সুশীল: তার মানে কুসংস্কারই বিশ্বাস?

মোল্লা: আপনার ফালতু যুক্তি বন্ধ করুন। আপনার এই নিয়ম খাটবে না। কারণ এই নিয়ম বদলাতে গেলে ধর্মে আঘাত লাগবে।

সুশীল: নরবলিও চিরাচরিত নিয়ম ছিল। বহু বছর ধরে সেই নরবলি চলে এসেছে। তাহলে এই চিরাচরিত নিয়ম কেনো তোলা হলো? এতে ধর্মে আঘাত লাগেনি?

মোল্লা: এটা পশু আর ওটা ছিল মানুষ।

সুশীল: তার মানে তো বলতে হবে মানুষ নিজেই নিয়ম ভাঙ্গে। নিজের জন্য দীর্ঘদিনের নিয়ম পরিবর্তন। তাহলে গরু, ছাগলদের জন্য নয় কেনো? এতে আপনার ধর্ম লঙ্ঘিত হচ্ছে না?

মোল্লা: (বেশ ঘাবড়িয়ে গেলো)
যায় হোক এটা তোলা যাবে না।

সুশীল: ওটা যদি তোলা যায় এটাও তোলা যায়।
মানুষের বিশ্বাসই যখন সব তাহলে ডাবকে যদি বিশ্বাস করে বলি দেয় তাহলে ক্ষতি কি? সেটাতেই তো ধর্ম স্থাপনা হবে।
এই নিয়ম তো কোনো ইশ্বর তৈরি করেনি। এ নিয়ম মানুষেরই তৈরি। তাই সতীদাহ প্রথা, নরবলি, পশু শিকারের মত পশুবলি, পশু-জবাইও মানুষই পাল্টাতে পারে।

আর আপনার ধর্মেই বলা আছে যে মানুষের মনে ভক্তি থাকলে কোনো যাকজমক, আড়ম্বর, নিয়ম-কানুনের প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই ইশ্বর লাভ সম্ভব।
তাই সেক্ষেত্রে আপনার এই ধর্মের যুক্তিও খাটছে না।

মোল্লা: (সমস্ত ধর্ম, বিজ্ঞান সব যুক্তিতে হেরে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে পড়লেন।)

বিচারপতি: কিন্তু মাত্র একদিন এই বলি, জবাই দিলে কি এমন ক্ষতি হবে?

সুশীল: আইন এ বলা আছে একটাও যদি প্রাণ বাঁচানো যায় সেটা বাঁচানো উচিত।

বিচারপতি: (এবার বিচারপতিও চুপ)

(সমস্ত আদালত নিস্তব্ধ)

বিচারপতি: সমস্ত যুক্তি তর্ক বিচার করে সুপ্রিম কোর্ট এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যে - হায় কোর্টের সমস্ত সিদ্ধান্ত ভুল ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন।
তাই এখন থেকে গরু জবাই ও ছাগল বলির মতো যন্ত্রণাদায়ক নিয়মে কঠোর নিষধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে। এখন থেকে শুধু মৃত ডাব বা ফল বলি দিয়েই ধর্ম রক্ষা করতে হবে।
ধর্মের দোহাই দিয়ে কোনো জীবের প্রাণ নেওয়া যাবেনা। জীবন ধর্মের চেয়ে অনেক অধিক দামী।
আর ধর্ম মানুষকে বাঁচাতে শেখায়: মারতে নয়।
তাই এটা ধর্ম নয়, অধর্ম। আজ সেটার সংশোধন করা হলো।
এর পর থেকে যদি কেউ পশু জবাই, পশু বলি দেয় তাহলে তাকে ১ বছরের জন্য সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। The case is closed.

(আদালত নিস্তব্ধ। সব কুসংস্কারমুক্ত মানুষরা আজ খুশি। আর তার সাথে খুশি অবলা জিবেরা)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

Rohit Vs Virat 🏆

YouTube channel link